হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ আর থাকছে না: কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

Image 61

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরানের পক্ষ থেকে জলপথে এক প্রকার ‘অঘোষিত অবরোধ’ এবং জাহাজ চলাচলের ওপর ‘টোল’ আদায়ের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, তেহরান রাজি থাকুক বা না থাকুক, খুব শীঘ্রই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ উন্মুক্ত করা হবে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: "সমুদ্রপথে চাঁদাবাজি চলবে না"

সম্প্রতি মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ইরানের ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ইরান আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের যে ফন্দি এঁটেছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প বলেন, "আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলকে উন্মুক্ত করবই। অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও এই কাজে আমাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত। এটি হয়তো খুব সহজ হবে না, তবে আমরা এটি দ্রুতই করতে যাচ্ছি।"

শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ

পাকিস্তানের মাটিতে যখন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা এক টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ট্রাম্প চুক্তির মূল শর্তটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, যেকোনো শান্তি চুক্তির ৯৯ শতাংশই নির্ভর করছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের ওপর। তিনি বিশ্বাস করেন, ইরান যদি পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসে, তবে হরমুজ প্রণালীর সংকট "স্বয়ংক্রিয়ভাবে" মিটে যাবে।

যুদ্ধবিরতি কি কেবল কাগজে-কলমে?

গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও হরমুজ প্রণালীর বাস্তব চিত্র বেশ উদ্বেগজনক।

জাহাজ চলাচলে স্থবিরতা: যুদ্ধের আগে এই পথে দৈনিক প্রায় ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত। কিন্তু লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে মাত্র ২২টি জাহাজ এই প্রণালী পার হওয়ার সাহস পেয়েছে।

আটকা পড়া ট্যাঙ্কার: বর্তমানে ৩২৫টি তেলের ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ৬০০-এর বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।

ইরানের দ্বিমুখী নীতি: বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান বর্তমানে ‘গেটকিপার’ বা দ্বাররক্ষীর ভূমিকা পালন করছে। তারা কেবল নিজেদের বন্ধু দেশ এবং মানবিক সাহায্যের জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।

আলোচনায় জেডি ভ্যান্স: সমাধানের পথ কতদূর?

যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও ইরান তাদের নিয়ন্ত্রিত নৌপথে একটি ‘সেফ করিডোর’ বা নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরি করেছে, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথের মতে, এই পথটি ইরান সম্পূর্ণ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

এক নজরে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব:

জ্বালানি সরবরাহ: বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

ভৌগোলিক অবস্থান: পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী একমাত্র জলপথ।

অর্থনৈতিক প্রভাব: এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তান এবং হরমুজ প্রণালীর দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পর ইরান আলোচনার টেবিলে কতটা নমনীয় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে ট্রাম্পের বার্তা স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক নৌপথের স্বাধীনতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সম্পর্কিত পোস্ট

Dingi News

ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।

আমাদের সাথে থাকুন