ঘরে বসেই অনলাইনে ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট তৈরি ও বাতিল করার নিয়ম: আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্ণাঙ্গ গাইড

Image 103

বাংলাদেশে নাগরিক জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রেই এখন টিআইএন বা ই-টিন (Electronic Tax Identification Number) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা, সঞ্চয়পত্র ক্রয়, জমির নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা অনলাইন ব্যবসা—এমন প্রায় অর্ধশতাধিক সেবায় কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ১২ ডিজিটের এই স্মার্ট কোডটির প্রয়োজন পড়ে।

অনেকেই মনে করেন ই-টিন তৈরি করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এর জন্য কোনো আইনজীবী বা মধ্যস্বত্বভোগী দালালের শরণাপন্ন হতে হয়। বাস্তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) আধুনিক অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ কোনো ধরনের ফি বা খরচ ছাড়াই মাত্র ৫ মিনিটে নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়ে এই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।

তবে ই-টিন করার আগে কিছু মৌলিক আইনি বিষয় জানা জরুরি। অসচেতনভাবে ই-টিন খুলে ফেললে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। এই পূর্ণাঙ্গ ব্লুপ্রিন্টে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ঘরে বসে নতুন ই-টিন খুলবেন, ভুল হলে তা কীভাবে সংশোধন করবেন, অপ্রয়োজনীয় ই-টিন বাতিলের আইনগত নিয়ম এবং ট্যাক্স রিটার্ন সংক্রান্ত জরুরি বিষয়াবলি।

১. ই-টিন (e-TIN) আসলে কী এবং এটি কেন প্রয়োজন?

ই-টিন হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক একজন নাগরিক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ১২ সংখ্যার একটি অনন্য পরিচিতি নম্বর। পূর্বের প্রচলিত কাগজের টিআইএন পদ্ধতির পরিবর্তে ২০১৩ সাল থেকে এই ডিজিটাল ই-টিন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

প্রধান যে ক্ষেত্রগুলোতে ই-টিন থাকা বাধ্যতামূলক:

১. ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত: ব্যাংকে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি মেয়াদি আমানত (FDR) রাখতে, ৫ লক্ষ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে এবং যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড আবেদন করতে।

২. ব্যবসা ও বাণিজ্য: সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ অথবা পুরনো ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে। এছাড়া লিমিটেড কোম্পানি, পার্টনারশিপ ফার্ম বা আমদানি-রপ্তানি সনদ (ERC/IRC) তুলতে।

৩. সম্পত্তি কেনাবেচা: নির্দিষ্ট মূল্যের জমি, ফ্ল্যাট বা কোনো স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও দলিলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে।

৪. গাড়ি রেজিস্ট্রেশন: মোটরগাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস নবায়ন বা নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে।

৫. পেশাগত সনদ ও প্রতিযোগিতা: চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে পেশাগত লাইসেন্স বজায় রাখতে এবং সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে।

৬. ডিজিটাল কন্টেন্ট মনিটাইজেশন: ফেসবুক, গুগল অ্যাডসেন্স বা ইউটিউব থেকে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের সময় ব্যাংক ও ট্যাক্স ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে Non-US TIN হিসেবে এই নম্বরটি প্রদান করতে হয়।

২. ই-টিন খোলার জন্য কী কী তথ্য ও নথিপত্র প্রয়োজন?

অনলাইনে আবেদন করার পূর্বে নিচের তথ্যগুলো হাতের কাছে গুছিয়ে রাখলে আবেদন প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটেই শেষ করা যায়:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল আবেদনকারীর স্মার্ট এনআইডি বা সাধারণ লেমিনেটেড এনআইডি নম্বর এবং কার্ডে উল্লেখিত সঠিক জন্মতারিখ।
  • সক্রিয় মোবাইল নম্বর: একটি সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর, কারণ ভেরিফিকেশনের জন্য এই নম্বরে ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে।
  • সঠিক ঠিকানা: এনআইডি অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান বসবাসের সঠিক ঠিকানা।
  • আয়ের উৎস: আয়ের প্রধান খাত (যেমন: চাকরি, ব্যবসা, পেশা বা অন্যান্য)।

৩. অনলাইনে বিনামূল্যে নতুন ই-টিন তৈরির ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিশিয়াল NBR e-TIN Registration Portal-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ফ্রিতে আবেদন সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া রিটার্ন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য রয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় e-Return Portal। নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:

ধাপ ১: এনবিআর পোর্টালে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন
১. যেকোনো ওয়েব ব্রাউজার থেকে এনবিআরের অফিশিয়াল e-TIN Registration Portal-এ প্রবেশ করুন।

২. হোমপেজের উপরের মেনু থেকে 'Register' অপশনে ক্লিক করুন।

৩. এখানে একটি ফর্ম ওপেন হবে:

User ID: আপনার পছন্দমতো একটি ইউনিক ইউজারনেম দিন (যেমন: নামের সাথে কিছু সংখ্যা)।

Password: কমপক্ষে ৮ ক্যারেক্টারের একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন।

Security Question & Answer: পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট রিকভার করার জন্য একটি সহজ প্রশ্ন ও উত্তর নির্বাচন করুন।

Mobile Number: আপনার ব্যক্তিগত সচল মোবাইল নম্বরটি লিখুন।

Email Address: আপনার কার্যকর জিমেইল বা ইমেইল ঠিকানা দিন (এটি ঐচ্ছিক হলেও দেওয়া ভালো)।

৪. স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে পূরণ করে 'Register' বাটনে চাপ দিন।

৫. আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি কোড যাবে। কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে 'Activate' বাটনে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে।

ধাপ ২: টিআইএন অ্যাপ্লিকেশনের মূল ফর্ম পূরণ
অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ হওয়ার পর আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে 'Login' করুন। এরপর মেনু থেকে 'TIN Application' লিঙ্কে ক্লিক করুন।

এখানে কয়েকটি ড্রপডাউন মেনু আসবে:

Taxpayer's Status: আপনি যদি সাধারণ ব্যক্তি হন, তবে নির্বাচন করুন 'Individual (Bangladeshi)'।

Having NID: নির্বাচন করুন 'Yes'।

Type of Purpose: আপনি কী কারণে টিন নিচ্ছেন তা নির্বাচন করুন (যেমন: New Registration, Banking/Credit Card, Trade License ইত্যাদি)।

Source of Income: আপনার আয়ের মূল উৎস নির্বাচন করুন (Employment, Business, Professional, বা Other)।

Location of Income: আপনি যে জেলা বা উপজেলায় কাজ বা ব্যবসা পরিচালনা করেন তা নির্বাচন করুন।

সবকিছু ঠিক থাকলে 'Go to Next' বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি যাচাইকরণ
এই পাতার তথ্যগুলো খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে:
১. Taxpayer's Name: আপনার এনআইডি কার্ডে ইংরেজি যেভাবে বড় বা ছোট হাতের অক্ষরে নাম লেখা আছে, হুবহু সেভাবে লিখুন।

২. Gender: পুরুষ (Male) বা নারী (Female) নির্বাচন করুন।

৩. National ID (NID) Number: আপনার ১০ ডিজিটের স্মার্ট কার্ড নম্বর অথবা ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বরটি দিন (১৩ ডিজিটের পুরনো কার্ড হলে সামনে জন্মসাল যুক্ত করতে হয়)।

৪. Date of Birth: এনআইডি অনুযায়ী দিন, মাস ও বছর নির্বাচন করুন।

৫. পিতা ও মাতার নাম: এনআইডি কার্ডের সাথে মিলিয়ে পিতা ও মাতার নাম ইংরেজিতে লিখুন।

৬. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: আপনার বিভাগ, জেলা, থানা, পোস্ট কোড এবং বিস্তারিত ঠিকানা পরিষ্কারভাবে লিখুন।

ধাপ ৪: প্রিভিউ ও চূড়ান্ত সার্টিফিকেট ডাউনলোড
ফর্মের সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর নিচে 'Go to Next' বাটনে ক্লিক করুন।
এবার সিস্টেমে আপনার ইনপুট করা সব তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসা এনআইডির মূল তথ্য ও ছবি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি বানান মিলিয়ে নিন। সব ঠিক থাকলে পৃষ্ঠার নিচের চেক বক্সে টিক মার্ক দিয়ে 'Submit Application' বাটনে ক্লিক করুন।

মুহূর্তের মধ্যেই স্ক্রিনে আপনার ১২ সংখ্যার ই-টিন নম্বরসহ মূল TIN Certificate জেনারেট হবে। সেখান থেকে 'View Certificate'-এ ক্লিক করে সার্টিফিকেটটি দেখে নিন এবং 'Print' বা 'Save as PDF' করে আপনার কম্পিউটারে বা মোবাইলে সুরক্ষিত রাখুন।

৪. ই-টিন সংক্রান্ত সাধারণ ভুল এবং তা সংশোধনের নিয়ম

অনেকের ক্ষেত্রে নাম, বাবার নাম কিংবা জন্মতারিখের তথ্যে গরমিল দেখা দেয়। মনে রাখা দরকার, অনলাইনে একবার ই-টিন তৈরি হয়ে গেলে পোর্টাল থেকে সরাসরি নিজের ইচ্ছেমতো নাম বা জন্মতারিখ পরিবর্তন করা যায় না।

কীভাবে সংশোধন করবেন?

  • যদি তথ্যে কোনো বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকে, তবে সংশোধিত এনআইডি কার্ডের কপি এবং চালানের তথ্য নিয়ে আপনার নির্দিষ্ট কর সার্কেল (Taxes Circle) অফিসে সশরীরে উপ-কর কমিশনারের (DCT) বরাবর লিখিত আবেদন করতে হয়। কর কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে তথ্য আপডেট করে দেন। এছাড়া কর অঞ্চলের বিস্তারিত তথ্য National Board of Revenue (NBR) Field Offices তালিকা থেকে পাওয়া যাবে।

৫. ই-টিন থাকলেই কি ট্যাক্স দিতে হয়? আয়কর রিটার্ন জমার আইনি বাস্তবতা

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ বিভ্রান্তি রয়েছে—অনেকে ভাবেন ই-টিন খোলা মানেই সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে বড় অংকের ট্যাক্স দিতে হবে। এটি একটি ভুল ধারণা।

ট্যাক্স বা কর প্রদান: কর কেবল তখনই দিতে হয়, যখন একজন নাগরিকের বার্ষিক আয় সরকারের নির্ধারিত করমুক্ত আয়ের সীমার চেয়ে বেশি হয় (যেমন: পুরুষদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার বেশি এবং নারীদের ক্ষেত্রে চার লক্ষ টাকার বেশি হলে)। আয় এর নিচে থাকলে এক টাকাও কর দিতে হয় না।

রিটার্ন দাখিল: কর দিতে না হলেও, আইনের নতুন বিধান অনুযায়ী যাদের সক্রিয় ই-টিন রয়েছে এবং যারা নির্দিষ্ট তালিকায় পড়েন, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি অর্থবছরের কর দিবসের (Tax Day) মধ্যে 'শূন্য আয়কর রিটার্ন' (Zero Tax Return) দাখিল করা এবং রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Proof of Submission of Return - PSR) সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে ঘরে বসেই NBR e-Return Portal-এর মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা যায়।

৬. অপ্রয়োজনীয় ই-টিন কি বাতিল বা ডি-অ্যাক্টিভ করা যায়?

অনেকেই সাময়িক কোনো প্রয়োজন যেমন ক্রেডিট কার্ড নেওয়া বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য হুজুগে ই-টিন তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে কোনো ব্যবসা বা করযোগ্য আয় নেই। তারা জানতে চান অনলাইনে ই-টিন বাতিল করার কোনো অপশন আছে কি না।

আইনি বাস্তবতা: এনবিআরের ওয়েব পোর্টালে ই-টিন সরাসরি 'Delete' বা 'Cancel' করার মতো কোনো অটোমেটিক বাটন রাখা হয়নি। তবে দেশের আয়কর আইন অনুযায়ী বৈধ উপায়ে টিন নিষ্ক্রিয় বা বাতিলের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

ই-টিন বাতিলের আইনগত প্রক্রিয়া:

১. যোগ্যতা: আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনার করযোগ্য কোনো আয় নেই, কোনো ব্যবসা বা সম্পদ নেই এবং ভবিষ্যতে আপনার করযোগ্য আয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে আপনি বাতিলের আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া যাদের ক্ষেত্রে ভুলবশত দুটি ই-টিন খোলা হয়ে গেছে, তারাও একটি বাতিল করতে পারবেন।

২. আবেদন প্রক্রিয়া: আপনাকে যে কর অঞ্চলের অধীনে ই-টিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে (যা আপনার সার্টিফিকেটের উপরে লেখা থাকে), সেই সার্কেলের উপ-কর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes - DCT) বরাবর লিখিত আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় প্রমাণক: আবেদনের সাথে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বর্তমান পেশার প্রমাণ, এবং শেষ ৩ বছরের দাখিলকৃত রিটার্নের কপি (যদি থাকে) সংযুক্ত করতে হবে।

৪. অডিট ও অনুমোদন: কর কর্মকর্তা আপনার বিগত আয়-ব্যয় পর্যালোচনা করে যদি দেখেন রাষ্ট্রের কাছে আপনার কোনো কর বকেয়া নেই, তবে তিনি আপনার ই-টিনটি সাসপেন্ড বা বাতিল করার সুপারিশ কমিশনারের কাছে পাঠাবেন এবং তা সিস্টেমে কার্যকর করা হবে।

৭. ই-টিন নিয়ে সতর্কতা: যেসব ভুল ভুলেও করবেন না

একাধিক ই-টিন খোলার চেষ্টা: আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী একজনের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক টিআইএন রাখা বা তৈরি করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য জরিমানা এমনকি আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে।

  • অন্যের এনআইডি ব্যবহার: নিজের কাজের সুবিধার্থে পরিবার বা বন্ধুর এনআইডি ব্যবহার করে টিন খুলবেন না। এতে সেই ব্যক্তির ওপর অনিচ্ছাকৃতভাবে আয়কর সংক্রান্ত আইনি দায় এসে পড়বে।
  • পাসওয়ার্ড ও ইউজারনেম ভুলে যাওয়া: ই-টিন খোলার সময় ব্যবহৃত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ডায়েরি বা নির্ভরযোগ্য ক্লাউড ড্রাইভে লিখে রাখুন। ভবিষ্যতে অনলাইন রিটার্ন তৈরি বা চালান দেওয়ার জন্য এটি বারবার প্রয়োজন হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশে নাগরিক সেবাগুলোর জটিলতা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে। ই-টিন তারই একটি চমৎকার উদাহরণ। কোনো তৃতীয় পক্ষের পেছনে অহেতুক টাকা খরচ না করে মাত্র একটি কম্পিউটার বা স্মার্টফোন দিয়ে কয়েক মিনিটেই যে কেউ ঘরে বসে নিজস্ব ই-টিন বানিয়ে নিতে পারেন। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে ই-টিন খোলার পাশাপাশি প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নিজের আয়ের সঠিক হিসাব প্রদর্শন ও রিটার্ন দাখিলের দায়িত্বটুকু পালন করাও নাগরিক কর্তব্যের একটি অপরিহার্য অংশ।

সম্পর্কিত পোস্ট

Dingi News

ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।

আমাদের সাথে থাকুন