বিনা দরপত্রে ১৮ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার, সরবরাহ করবে টোটাল এনার্জিস

বিনা দরপত্রে ১৮ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার, সরবরাহ করবে টোটাল এনার্জিস

দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং চলমান গ্যাস-সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিস (TotalEnergies) থেকে এই এলএনজি কেনা হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) ২৮তম সভায় এই আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির এই প্রস্তাবটি কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

যেভাবে আসবে এলএনজি
অনুমোদিত প্রস্তাবের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মোট নয় মাসে এই ১৮ কার্গো এলএনজি দেশে আসবে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে দুটি করে এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে টোটাল এনার্জিস।

চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্তও যুক্ত করা হচ্ছে। দেশে গ্যাসের চাহিদা যদি আরও বাড়ে, তবে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তির বাইরেও অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনার সুযোগ রাখা হবে। এর ফলে হঠাৎ করে গ্যাসের সংকট তৈরি হলে দ্রুততম সময়ে তা মোকাবিলার সুযোগ পাবে সরকার।

কেন এই জরুরি সিদ্ধান্ত?
সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি কেনা হলেও এবার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) বেছে নেওয়ার পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানির বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) যেকোনো সময় বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই দীর্ঘমেয়াদি দরপত্র প্রক্রিয়ায় না গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস-সংকট ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
দেশে বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদনও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সিরামিক খাতের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টোটাল এনার্জিসের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত এলএনজি সরবরাহ পাওয়া গেলে তা দেশের শিল্প খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে। তবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা এই এলএনজির দাম উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় কতটা সাশ্রয়ী বা ব্যয়বহুল হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ভবিষ্যৎ মূল্যের ওপর।

আপনার নিউজ পোর্টালের জন্য প্রতিবেদনটি ‘প্রথম আলো’র সংবাদ পরিবেশন শৈলী (স্টাইল), শব্দচয়ন এবং কাঠামোর আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে। আপনি চাইলে পোর্টালের প্রয়োজন অনুযায়ী শিরোনামটি সামান্য পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Dingi News

ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।

আমাদের সাথে থাকুন