দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার সকাল ১০টায় বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এই মেধা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষা চলবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। উৎসবমুখর পরিবেশে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের এই মেধা লড়াইকে কেন্দ্র করে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
পুনরায় চালু হলো মেধা যাচাইয়ের এই মহোৎসব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক সভায় এই বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। কয়েক বছর বিরতির পর পুনরায় এই পরীক্ষা চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠবে। অভিভাবকরাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক ও মানসিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।
সাধারণ জেলার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার রুটিন
দেশের অধিকাংশ জেলায় অর্থাৎ সাধারণ জেলাগুলোর জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে আড়াই ঘণ্টা। নিম্নে সাধারণ জেলাগুলোর পরীক্ষার বিস্তারিত রুটিন তুলে ধরা হলো:
তারিখ ও দিন বিষয়ের নাম সময়
১৫ এপ্রিল (বুধবার) বাংলা সকাল ১০:০০ - দুপুর ১২:৩০
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ইংরেজি সকাল ১০:০০ - দুপুর ১২:৩০
১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) প্রাথমিক গণিত সকাল ১০:০০ - দুপুর ১২:৩০
১৮ এপ্রিল (শনিবার) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান সকাল ১০:০০ - দুপুর ১২:৩০
তিন পার্বত্য জেলার জন্য বিশেষ সময়সূচি
ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং বিশেষ প্রশাসনিক কারণে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলার পরীক্ষার রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলোতে পরীক্ষা ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।
পার্বত্য জেলার রুটিন একনজরে:
১৭ এপ্রিল (শুক্রবার): প্রাথমিক গণিত
১৮ এপ্রিল (শনিবার): বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান
১৯ এপ্রিল (রবিবার): বাংলা
২০ এপ্রিল (সোমবার): ইংরেজি
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ
শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় তারা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বেশি পাবে। অর্থাৎ, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেষ হবে, সেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এই পদক্ষেপটি শারীরিক বা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি
সারাদেশে কয়েক হাজার কেন্দ্রে একযোগে এই মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেভাবে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় ২০২৫ সালের এই পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে, এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ, ৭৫% কমবে নগদ টাকার ব্যবহার
ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।