ইরানের একটি 'কামিকাজে' ড্রোন তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু সেটি আকাশেই ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) ডলারের একেকটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল!
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের তৈরি সাশ্রয়ী 'শাহেদ' সিরিজের কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন। বিশালাকার এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে এই সস্তা ড্রোনগুলো। বিশেষ করে, এর নির্মাণব্যয় এবং এটি ধ্বংস করতে হওয়া খরচের বিশাল ব্যবধান সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
২০ হাজার বনাম ৪০ লাখ: এক অসম যুদ্ধের হিসাব
নিউইয়র্ক টাইমস ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু এটি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের একেকটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল খরচ করতে হয় প্রায় ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, একটি সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করতে গিয়েও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ২০০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ইরান মূলত এই 'অর্থনৈতিক ফাঁদ' ব্যবহার করেই পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেটকে চাপে ফেলছে।
শাহেদ ড্রোন কেন এত ভয়ঙ্কর?
শাহেদ-১৩১ ও ১৩৬ হলো ছোট ডেল্টা-উইং বিশিষ্ট ড্রোন। এর পেছনে থাকা প্রপেলার চালিত ইঞ্জিনটি একে রাডার থেকে আড়ালে রাখতে সাহায্য করে। এর প্রধান শক্তিগুলো হলো:
বিপুল সংখ্যা: শত শত ড্রোন একসঙ্গে পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে 'জ্যাম' করে দেওয়া হয়।
নিখুঁত লক্ষ্য: এটি জিপিএস ও সেন্সরের মাধ্যমে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি বা তেল শোধনাগারে আঘাত হানতে পারে।
বিস্ফোরক ক্ষমতা: ড্রোনের মাথায় প্রায় ৪০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বহন করা যায়।
'লুকাস': ইরানের জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা চাল
ইরানি ড্রোনের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও এখন নিজেদের কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী এখন ইরানের শাহেদের আদলেই তৈরি করছে নিজস্ব সংস্করণ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুকাস’ (LUCAS) বা লো-কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম।
একেকটি লুকাস ড্রোনের উৎপাদন খরচ মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে তাদের প্রথম আত্মঘাতী ড্রোনের স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে।
আগামীর যুদ্ধ হবে 'রোবট বনাম রোবট'
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের এই পর্যায়ে এসে যুদ্ধের সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন আর কেবল দামী অস্ত্রই শেষ কথা নয়; বরং কত কম খরচে প্রতিপক্ষকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল লক্ষ্য। আকাশ এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে 'কিলার ড্রোন' বা আত্মঘাতী ড্রোনের দখলে চলে যাচ্ছে।
ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।