৯০ দশকের সোনালী দিনগুলো: আমাদের হারানো শৈশব ও জীবনযাত্রা

Image 42

আজকের প্রজন্মের কাছে 'ট্যাপ' মানে স্ক্রিনে আঙুল ছোঁয়ানো, কিন্তু আমাদের কাছে 'ট্যাপ' ছিল ক্যাসেট প্লেয়ারের বাটন। ২০২৬ সালের এই দ্রুতগতির জীবনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা পেছনে তাকাই, তখন নব্বইয়ের দশকের সেই ধীরস্থির আর মায়াবী সময়টা আমাদের ভীষণভাবে টানে।

১. বিটিভির সেই মায়াবী বিকেল ও রাত
আজকের নেটফ্লিক্স বা ইউটিউবের যুগে সেই সময়ের কথা ভাবলে অবাক লাগে। শুক্রবার মানেই ছিল এলাইক জাদুর মতো। বিকেলবেলা 'আলিফ লায়লা' বা 'সিন্দাবাদ' দেখার জন্য পুরো পাড়া এক হয়ে যেত। আর রাত ৮টার সংবাদের পর হুমায়ূন আহমেদের নাটক দেখার জন্য রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে যাওয়ার দৃশ্য কি ভোলা সম্ভব?

২. খেলার মাঠ আর কাগজের নৌকা
আমাদের গেমিং কনসোল ছিল না, কিন্তু ছিল এক বিশাল খেলার মাঠ। স্কুল থেকে ফিরেই ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দৌড় দিতাম মাঠে। গোল্লাছুট, কানামাছি, কিংবা বর্ষার দিনে নর্দমার পানিতে কাগজের নৌকা ভাসানো—এগুলোই ছিল আমাদের পরম আনন্দ।

৩. চিঠির যুগ ও ল্যান্ডফোনের অপেক্ষা
এখনকার মতো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ছিল না। তখন ছিল চিঠির মায়া। প্রিয় মানুষের চিঠির জন্য ডাকপিয়নের পথ চেয়ে বসে থাকা কিংবা ল্যান্ডফোনের সেই 'ক্রিং ক্রিং' শব্দে বুক ধড়ফড় করা—সেই রোমাঞ্চ আজকের হোয়াটসঅ্যাপ কল দিতে পারে না।

৪. ক্যাসেট ফিতা আর পেনসিলের বন্ধুত্ব
গান শোনার জন্য তখন ছিল অডিও ক্যাসেট। ফিতা বের হয়ে গেলে পেনসিল দিয়ে ঘুরিয়ে ঠিক করা ছিল এক বড় শিল্প! জেমস, আইয়ুব বাচ্চু কিংবা এলআরবি-র সেই গানগুলো ফিতার স্ক্র্যাচ পড়া শব্দে অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি করত।

৫. খাবারের স্বাদ ও আড্ডা
স্কুলের গেটের সেই আচার, আমসত্ত্ব বা হাওয়াই মিঠাইয়ের স্বাদ আজও মুখে লেগে আছে। তখন আড্ডা মানে ছিল পাড়ার মোড়ে কিংবা কারো ড্রয়িংরুমে বসে প্রাণখোলা হাসি, যা এখন ফেসবুক কমেন্ট সেকশনে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।

নব্বইয়ের দশক শুধু একটা সময় ছিল না, ওটা ছিল একটা আবেগ। প্রযুক্তির আধিক্য ছিল না ঠিকই, কিন্তু মানুষের মধ্যে ছিল গভীর সংযোগ। সেই সাদাকালো বা রঙিন টিভির স্মৃতিগুলো আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Dingi News

ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।

আমাদের সাথে থাকুন