মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের একাধিপত্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে, শীঘ্রই একটি কূটনৈতিক সমাধান আসতে পারে।
ডলারের টানা সাত দিনের দরপতন: কী ঘটছে মুদ্রাবাজারে?
মঙ্গলবার লেনদেন শেষে দেখা যায়, মার্কিন ডলারের মান টানা সপ্তম দিনের মতো হ্রাস পেয়েছে। ডলার ইনডেক্স, যা বিশ্বের ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্ধারণ করে, তা ০.২৬ শতাংশ কমে ৯৮.০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং যুদ্ধ থামার সংকেত—এই দুই কারণেই বিনিয়োগকারীরা এখন ডলার ছেড়ে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু লাভজনক সম্পদে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে ইউরোর দাম ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ১.১৭৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানে হতে পারে ঐতিহাসিক বৈঠক
সপ্তাহান্তের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যখন ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছিল, তখন পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা পুরো চিত্র বদলে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন:
"আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।"
এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং ডলারের বিনিময় হারে বড় প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন সংঘাত থেকে বেরোনোর জন্য একটি 'এক্সিট র্যাম্প' বা সম্মানজনক পথ খুঁজছে।
হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব বাণিজ্যে স্বস্তির আভাস
বাজার কৌশলবিদদের মতে, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে ইরান তাদের সমুদ্রপথ বা স্ট্রেইট অব হরমুজ পুনরায় খুলে দিতে পারে। এর ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে। মূলত এই 'সিম্বলিক ডিল' বা প্রতীকী চুক্তির প্রত্যাশাই ডলারের দরপতনের মূল কারণ।
এসইও কি-পয়েন্টস (এক নজরে):
ডলারের বর্তমান অবস্থান: ৯৮.০৮ (মার্চের পর সর্বনিম্ন)।
ইউরোর বর্তমান দর: $১.১৭৯৬।
মূল প্রভাবক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা।
ভেন্যু: পাকিস্তান (সম্ভাব্য)।
কেন ডলারের মান কমছে?
১. শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা: যুদ্ধ বিরতির সংকেত বাজারে ডলারের চাহিদা কমিয়ে দেয়।
২. মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি: ইউএস ইনফ্লেশন ডাটা আশাব্যঞ্জক হওয়ায় ফেড রিজার্ভের ওপর চাপ কমেছে।
৩. বিনিয়োগকারীদের আস্থা: নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের বদলে ইউরো ও পাউন্ডে আগ্রহ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য বৈঠকটি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর বড় একটি ধাপ। তবে আলোচনার ফলাফল কী হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী কয়েক সপ্তাহ মুদ্রাবাজারের গতিপথ নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ: ট্রাম্পের সামনে এখন কোন পথ?
ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।