ইউক্রেন যুদ্ধের সেই পরিচিত ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত এবং আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে কয়েক শ ইরানি ড্রোন।
ইউক্রেন রণক্ষেত্র কাঁপিয়ে এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ত্রাস সৃষ্টি করছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক শ ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই ‘কামিকাজে’ ড্রোন কৌশল বেছে নিয়েছে ইরান।
কেন শাহেদ ড্রোন এত ভয়ংকর?
সস্তা ও বিধ্বংসী: মাত্র ৫০ হাজার ডলার মূল্যের এই ড্রোনগুলো ৫০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে। এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক সস্তা কিন্তু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর।
মানসিক আতঙ্ক: ঘাস কাটার মেশিনের মতো কর্কশ শব্দের এই ড্রোনগুলো নিচ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে পারে। এর গগনবিদারী শব্দ সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
বিশাল পাল্লা: প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম এই ড্রোনগুলো উড্ডয়নকালেও দিক পরিবর্তন করতে পারে।
হামলার প্রভাব:
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর প্রায় ৭০০টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যার বড় অংশ ভূপাতিত করা গেলেও কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার 'রাস তানুরায়' ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের রাডার ব্যবস্থাও এই ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের পর এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানের এই ড্রোন কৌশলের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।