বিশ্ব কি এক ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সাম্প্রতিক আল্টিমেটাম এবং ‘একটি আস্ত সভ্যতা আজ রাতে মারা যাবে’—এমন প্রলয়ঙ্করী বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের তেল ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলার পর এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, হোয়াইট হাউস কি সত্যিই পরমাণু বোতামে চাপ দিতে যাচ্ছে?
ট্রাম্পের ডেডলাইন ও ধ্বংসাত্মক বার্তার নেপথ্যে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক হুশিয়ারিতে ইরানকে আজ রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে নতুন চুক্তিতে আসার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং মার্কিন শর্ত মেনে নিতে হবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, “আজ রাতে একটি সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটবে।” এই ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ শব্দচয়ন বিশ্বজুড়ে পরমাণু যুদ্ধের আতঙ্ক তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা বনাম ধোঁয়াশা
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর হোয়াইট হাউস তড়িঘড়ি করে জানায় যে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট যখন সরাসরি জানতে চাওয়া হয় যে ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি না, তখন তিনি বলেন— “প্রেসিডেন্ট কী করবেন, তা কেবল তিনিই জানেন।” এই রহস্যময় উত্তর পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
ইরানের ‘রেড লাইন’ ও পাল্টা হুঙ্কার
আমেরিকার এই ‘নিউক্লিয়ার সাব্রে র্যাটলিং’ বা পরমাণু হুমকির মুখে মাথা নোয়াতে নারাজ তেহরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক অবকাঠামোতে হাত দিলে তার পাল্টা জবাব হবে ভয়াবহ।
আমেরিকা ও তার মিত্রদের তেল-গ্যাস সম্পদ চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি নাগরিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
মাঠপর্যায়ের যুদ্ধ পরিস্থিতি: আক্রান্ত খাড়গ দ্বীপ
ইতিমধ্যেই হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ড (Kharg Island)-এ বোমাবর্ষণ করেছে। যদিও দাবি করা হয়েছে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনায় আঘাত করা হয়েছে, কিন্তু এই হামলা ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরীণ রেললাইন ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলা চালিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।
শান্তি কি তবে অধরা?
এত উত্তেজনার মাঝেও কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে ইরানের ১০ দফার শান্তি প্রস্তাব। ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বললেও একে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আজ রাতের সময়সীমা পার হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য কি এক নতুন যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, নাকি শেষ মুহূর্তে কূটনীতি জয়ী হবে—তা নিয়ে পুরো বিশ্ব এখন গভীর উৎকণ্ঠায়।
ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।