ইসলাম ও দেশীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে জামায়াতের বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

Image 67

২০২৬ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পয়লা বৈশাখকে ঘিরে এক ব্যতিক্রমী অবস্থান ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির মতে, ইসলাম স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে এবং তৌহিদ ও রিসালাতের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন সব ঐতিহ্যই ইসলামের সৌন্দর্য।

পয়লা বৈশাখ ও জামায়াতের অবস্থান

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত এক বিশাল বৈশাখী শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, "মানুষের মঙ্গল-অমঙ্গলের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তবে বাংলাদেশের কোনো সম্প্রদায় যদি তাদের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী উৎসব পালন করে, তাতে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই। ইসলাম কখনোই অন্যের বিশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে না।"

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান তার বক্তব্যে বাংলা সনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সম্রাট আকবর মূলত খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ এটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন:

মসজিদের শহর ঢাকা: আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙা এবং কৃষকের মাঠের পাশে নামাজ পড়া এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য।

সংস্কৃতি পালন: ইসলাম সব সময় স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে, যা ইসলামের অন্যতম একটি মানবিক দিক।

‘নববর্ষের নব স্বপ্নে’ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

সকাল পৌনে ৯টায় ‘নববর্ষের নব স্বপ্নে নব উদ্যমে জাগো’ প্রতিপাদ্যে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এটি প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট মোড় হয়ে রমনা পার্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় দেখা গেছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপের প্রতিফলন।

শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণসমূহ:

শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ: শিশুদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং মাথায় গ্রামীণ মাথাল। তারা লাঙল-জোয়াল ও চাষি সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

লোকজ অনুষঙ্গ: পালকি, দেশীয় মাছ, ফল এবং মসজিদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

প্রতীকী অভিনয়: অনেককে জাল ও চাঁই দিয়ে মাছ ধরার প্রতীকী অভিনয় করতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।

রঙিন উপস্থিতি: জামায়াত নেতা-কর্মী ও শিল্পীরা সাদা, লাল ও কমলা রঙের বৈশাখী পাঞ্জাবি পরে উৎসবে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

রমনার বকুলতলায় সাংস্কৃতিক উৎসব

শোভাযাত্রা শেষে রমনা পার্কের বকুলতলায় শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাইফুল্লাহ মানসুরের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে পরিবেশিত হয়:

চিরায়ত বাংলা গান ও দেশাত্মবোধক সংগীত।

ঐতিহ্যবাহী জারি-সারি ও গম্ভীরা।

আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ ও শিক্ষামূলক নাটিকা।

উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
এই বৈশাখী আয়োজনে সাইফুল আলম খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:

মোহাম্মদ কামাল হোসেন (সংসদ সদস্য, ঢাকা-৫)

নূরুল ইসলাম বুলবুল (সংসদ সদস্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)

দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলগণ।

জামায়াতে ইসলামীর এই অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশীয় সংস্কৃতির সাথে দলটির সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। ইসলামের মূল স্তম্ভ ঠিক রেখে দেশীয় ঐতিহ্য লালনের এই বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Dingi News

ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।

আমাদের সাথে থাকুন