ফুটবল মাঠের লড়াই শুরুর আগেই শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে না নিলে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি নাকি রাজনৈতিক চাল?
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (IFF) ইতোমধ্যে ফিফার কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের বর্তমান যে বৈরি সম্পর্ক, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানি ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড়
এই উত্তেজনায় ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, "ইরান খেলতে আসতে পারে, কিন্তু তাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে না আসাই ভালো।" ট্রাম্পের এই বিতর্কিত বার্তার পর ইরান ফুটবল প্রধান মেহেদি তাজ কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আয়োজক দেশ যেখানে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারে না, সেখানে আমরা পা রাখব না।"
অনড় অবস্থানে ফিফা
তবে ইরানের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফিফার এমন অবস্থানে ইরান এখন বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে জোর গুঞ্জন।
ইরানের গ্রুপ পর্বের লড়াই (যদি অংশ নেয়):
১৬ জুন: বনাম নিউজিল্যান্ড (লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র)
২২ জুন: বনাম বেলজিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র)
২৬ জুন: বনাম নির্ধারিত প্রতিপক্ষ (সিয়াটল, যুক্তরাষ্ট্র)
এখন দেখার বিষয়, ফুটবল কূটনীতিতে ফিফা শেষ পর্যন্ত ইরানের মান ভাঙাতে পারে নাকি এশিয়া থেকে প্রথম কোয়ালিফাই করা দলটিকে ছাড়াই শুরু হবে ২০২৬-এর বিশ্বকাপ।
ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।