ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনরত তরুণদের পাশে নাহিদ ইসলাম

ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনরত তরুণদের পাশে নাহিদ ইসলাম

ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে ভারতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের আটক ও ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপের সমালোচনা করে আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংহতি বার্তায় ভারতের আন্দোলনরত তরুণ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক অধিকার, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের লড়াই শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ।

বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পাশে রয়েছে। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি

ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের দাবির মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে সংহতি বার্তায়।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনকারীদের দমন করতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি তোলার কারণে শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো গ্রহণযোগ্য নয় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

বার্তায় বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এসব অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত তরুণদের একা ভাবার কোনো কারণ নেই; বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষ থেকেও তাঁদের প্রতি সংহতি রয়েছে।

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ

ভারতের তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতার তুলনা টানা হয়েছে বিবৃতিতে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির কথাও স্মরণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘের হিসাবের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। বাংলাদেশের সেই আন্দোলনের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষের ব্যক্তিরা যে সংহতি জানিয়েছিলেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণেরা বুঝতে পেরেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পারস্পরিক সংহতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা

সংহতি বার্তায় ভারতের বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাসের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে শাহীনবাগের নারী আন্দোলন এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জোগায়। পাশাপাশি নারী আন্দোলনকারীদের ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

বার্তায় ধর্মীয় পরিচয়, জাত, লিঙ্গ কিংবা সামাজিক শ্রেণির ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টির বিরোধিতা করা হয়। বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংখ্যালঘুদের অধিকার, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এতে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে বলা হয়, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পরিবর্তে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা উচিত।

শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের মুক্তির দাবি

ভারতে আটক রাজনৈতিক কর্মী শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে সংহতি বার্তায়। তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিচার ছাড়াই আটক রাখার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তরুণ নেতৃত্বসহ আরও অনেক মানুষ আটক রয়েছেন। তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। ভারতের আন্দোলনরত তরুণ ও রাজনৈতিক বন্দিদের দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও ন্যায্যতার আহ্বান

গণতান্ত্রিক অধিকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে বার্তায়। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে এমন একটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে সম্মান করবে এবং সরকারগুলো নিজ নিজ জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।

বার্তার শেষাংশে ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যান করে বিভাজন ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়।

সংহতি বার্তায় বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্মের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সংহতির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সর্বশেষ পোস্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

Dingi News

ডিঙ্গি নিউজ একটি আধুনিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম যা বাংলাদেশের ও বিশ্বজুড়ে দ্রুত, সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছে দেয়। আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খবর সহজভাবে উপস্থাপন করি।

আমাদের সাথে থাকুন